কলার উপকারিতা ও অপকারিতা

কলা খুবই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি ফল। কলা বাংলাদেশে সর্বত্র সব জায়গায়ই সারা বছরই পাওয়া যায় এজন্য কলা অতি সুপরিচিত একটি ফল। কলা দামেও সস্তা এবং পুষ্টিতেও ভরপুর। বাড়ির আনাচে-কানাচে, জমির ধারে, রাস্তার পাশে, উচু জায়গায় কলার গাছ দেখতে পাওয়া যায়। কলার মধ্যে বিদ্যমান আছে আমাদের দেহের  জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ক্যালোরি ও আরো অনেক পুষ্টিগুন। আমরা অনেকেই জানিনা কলা খাওয়া আমাদের জন্য কতটা উপকারী। কলার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ আছে যা আমাদের দেহের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। 

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কলার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে। আমরা যারা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানিনা শুধুমাত্র তাদের জন্য আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি। আমাদের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং জেনে নিন কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা। আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে আমরা কলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব –

এই পোস্টে যা যা আছে

কলার পুষ্টি উপাদান

কলার নানাবিদ পুষ্টি উপাদানের জন্য কলা আমাদের নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন। কলা খেলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলোর কার্যক্ষমতা ঠিক থাকে। দেহের জটিল জটিল রোগ প্রতিরোধ সহ দেহের কাঠামো গঠনে কলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফল। ১০০ গ্রাম সমপরিমাণ কলার মধ্যে যে পুষ্টির উপাদান গুলো আছে –

পাকা কলার পুষ্টি উপাদান

  • ক্যালরি – ১০৯ কিলো ক্যালরি
  • ভিটামিন এ– ৮০ মাইক্রোগ্রাম
  • ভিটামিন সি – ২৪ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম – ১৩ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম – ৩৫৮ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি১ – ০.১০ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি ২ – .০৫ মিলিগ্রাম
  • প্রোটিন – ৭ মিলিগ্রাম
  • শর্করা – ২৫ মিলিগ্রাম
  • চর্বি– ০.৭ মিলিগ্রাম
  • লৌহ– ০.৯০ মিলিগ্রাম

কাঁচা কলার পুষ্টি উপাদান–

  • পানি – ৭৪.৯১ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট – ২৩ গ্রাম 
  • ফাইবার– ২.৬ গ্রাম 
  • ক্যালসিয়াম– ৫ গ্রাম 
  • ম্যাগনেসিয়াম – ২৭ মিলিগ্রাম 
  • ফসফরাস – ২২ মিলিগ্রাম 
  • আয়রন – .২৬ মিলিগ্রাম 
  • পটাশিয়াম – ৩৫৮ মিলিগ্রাম 
  • ক্লোরাইড – ২.২ মিলিগ্রাম 
  • ভিটামিন সি – ৮.৭ মিলিগ্রাম

কলা খাওয়ার উপকারিতা কি? 

কলা এমন একটি ফল যা দামে সস্তা, গুণগত মানে খুব ভালো এবং সারা বছরই পাওয়া যায়। কলা দেখতে যেরকম সুন্দর তেমনি খেতে অনেক সুস্বাদু। কলাতে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর উপস্থিতির কারণে আমাদের দেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিহত করে। দেহের লিগামেন্ট শক্ত করে দেহকে করে মজবুত ও শক্তিশালী। কলার নানাবিধ উপকারিতা –

মাংস পেশীর দুর্বলতা রোধ করে 

মাংসপেশির দুর্বলতা রোধে  পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। কলাতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম  পাওয়া যায়। মাংসপেশীতে টান লাগা ও মাংস পেশির দুর্বলতা রোধে কলা ভালোই উপকার করে। দেহে পটাশিয়ামের অভাব হলে ইনসুলিন এর উৎপাদন কমে যায় এবং রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মাংস পেশীতে টান লাগে, মাংস পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সমস্যা বেশি দিন থাকলে প্যারালাইজড হতে পারে অথবা মাংস পেশীর টিস্যু ছেড়ে যেতে পারে। 

হাড়ের গঠনে সাহায্য করে 

হাড়ের গঠনে কলা খুবই উপকারী কেননা কলাতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম,  ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি। যা হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । দেহে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে দেহের হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। পেশী দুর্বল ও লিগামেন্টে ব্যথা হয় হাত, পা, মুখে বোধশক্তি কমে যায়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে ।

কলার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস উপাদানের উপস্থিতির কারণে দেহের হাড় শক্ত ও মজবুত হয়। ১০০ গ্রাম সমপরিমাণ কলায় ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় ১৩ মিলিগ্রাম। যা আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করে। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

একটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত ভালো সেই দেহ তত শক্তিশালী, সুস্থ ও স্বাভাবিক। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চান? তাহলে নিয়মিত কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। কলাতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান আছে, তাই কলা খেলে দেহের ইলেকট্রোলাইটের সমতা বজায় থাকে। আর ইলেকট্রোলাইট হলো দেহে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি। কলাতে প্রচুর পরিমাণে এই উপাদান গুলো পাওয়া যায়। 

এছাড়া ১০০ গ্রাম সমপরিমাণ কলাতে ভিটামিন এ পাওয়া যায় ৮০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ২৪ মিলিগ্রাম, প্রোটিন ৭ মিলিগ্রাম। কলার এসব উপাদান দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেহকে রাখে সুস্থ সবল ও দেহকে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 

আরও পড়ুন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়-চমৎকার ৮টি উপায় জেনে নিন

মানসিক চাপ কমায় 

মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন কলা খাওয়ার  অভ্যাস করুন। কলাতে উপস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর কারনে মস্তিষ্কের পেশীয় টিস্যু গুলো সচল থাকে এবং মস্তিষ্কের রক্ত চলাচলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। মস্তিষ্কের উৎফুল্ল অনুভূতির জন্য প্রয়োজন সেরাটোনিন আর এই সেরাটোনিন পাওয়া যায় রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। নিয়মিত কলা খেলে কলা তে থাকা ট্রিপ্টোফ্যান অ্যামিনো এসিড রক্তের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সেরাটোনিন এ-র উৎপাদন করে। এরফলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ও মস্তিষ্কের টিস্যু গুলো সবল থাকে। ফলে দেহের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের  কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকে সেই সাথে কমে যায় মানসিক চাপ 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে 

অতিরিক্ত পাকা কলায় পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় তা দেহে রক্তের স্বাভাবিকতা বজায় রাখে। দেহে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকলে দেহ বিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পায়। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এর মত ভয়ংকর রোগ থেকে মুক্ত করে। অতিরিক্ত পাকা কলার বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহে ইলেকট্রোলাইটের সমতা বজায় রাখার পাশাপাশি রক্ত নালীর ব্লক দূর করে। রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মত বড় ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে 

ক্যান্সারের প্রতিকার নেই, ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করুন এবং সুস্থ থাকুন। ক্যান্সার প্রতিরোধে হিসেবে পাকা কলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। রক্তের শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে ব্লাড ক্যান্সারের সম্ভাবনা দেখা যায়। বেশি পাকা কলা খাওয়ার ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধী যৌগ পাওয়া যায়। পাকা কলার মধ্যে আছে TNF -A যৌগ। এই যৌগ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা  বৃদ্ধি করে এবং শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। তাই নিয়মিত পাকা কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন, ক্যান্সার প্রতিরোধ করুন, সুস্থ থাকুন, পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। 

হজমে সহায়তা করে 

আপনি কি হজমের সমস্যায় ভুগছেন? ঘন ঘন বদ হজম হচ্ছে? এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়মিত কলা খান। কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আছে ফাইবার জাতীয় উপাদান। যা হজমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এছাড়া কলায় আছে পানি, আয়রন, ভিটামিন সি, লৌহ, প্রোটিন ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতির কারণে কলা খেলে দেহে ইলেক্ট্রোলাইটের পরিমাণ ঠিক থাকে। এর ফলে ক্ষুদ্রান্ত,  বৃহদান্ত সঠিকভাবে কাজ করতে পারে এবং খাবার দ্রুত হজম হয়। এছাড়া কাচা কলা খেলে ডায়রিয়া ভালো হয়। 

কিডনি ভালো রাখতে সাহায্য করে

কিডনি ভালো রাখতে নিয়মিত কলা খাওয়া উচিত। কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায় যা কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে রক্ষা করে। এছাড়া পটাশিয়াম দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে কিডনি রোগীদের কলা খাওয়া উচিত নয়। কারণ কিডনি রোগ হলে শরীরের পানি অপসারণ এর সমস্যা হয়, এমতাবস্থায় কলা খেলে দেহে পটাশিয়াম পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং সেই সাথে পানির ভারসাম্য অত্যাধিক হয়ে যাবে। 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় 

নিয়মিত কলা খেলে ত্বকের কোষ গুলো স্বাভাবিক থাকে। ত্বকের বলিরেখা দূর হয়। কলার মধ্যে প্রচুর পানি ও প্রচুর ভিটামিন সি ও অন্যান্য উপাদান আছে। ফলে কলা খাওয়ার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা ঠিক থাকে। ত্বকের ব্রণ, কালো দাগ, ফুসকুড়ি, দূর করতে ভিটামিন সি এর গুরুত্ব অপরিসীম। ডক্টর দীপক কুমার সাহা (ডিএমএফ) এর মতে, ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সবুজ শাকসবজি, ভিটামিন সি, প্রোটিন ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার খুবই প্রয়োজনীয়। কলার মতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। যা ত্বকের কালো দাগ দূর করে এবং ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে 

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি চান? তাহলে নিয়মিত কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। বর্তমানে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রায় নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য ভুগলে নানা ধরনের জটিল  সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কলাতে প্রচুর পরিমানে ক্যালরি পাওয়া যায় যা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে। এছাড়া শরীরে ক্যালোরির ঘাটতি দেখা দিলে শারীরিক দুর্বলতা শুরু হয়। কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং শরীরে অসারতা সৃষ্টি হয়। দেহে পর্যাপ্ত ক্যালরি ঘাটতি হলে সাধারণত এই সমস্যাগুলো দেখা যায়। কলাতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি পাওয়া যায়। নিয়মিত কলা খান দেহে ক্যালরির চাহিদা পূরণ করুন। দূর করুন শারীরিক দুর্বলতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য। 

দৈহিক শক্তি বৃদ্ধি করে 

কলাকে বলা হয় সুপার ফ্রুটস। কলা খেলে প্রচুর পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায়। কলাতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ  ও ফ্রুক্টোজ থাকার কারণে হজমের কোন সমস্যা হয় না। আবার কলাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে তা খাদ্যকে দ্রুত গতিতে হজম করে এবং গ্লুকোজ তৈরি করে। ফলে দেহে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপাদন হয়। 

শরীরে পানির চাহিদা পূরণ হয় 

একটি দেহের পরিচালনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পানি। আমাদের দেহে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানির দরকার হয়। প্রতি 100 গ্রাম সমপরিমাণ কলায় পানি আছে 74.91 গ্রাম। প্রতিদিন কলা খাওয়ার ফলে আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা কিছুটা হলেও পুরন হয়। দেহে তরলের ভারসাম্য ঠিক থাকলে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে বাঁচা যায়। মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক ক্রিয়ায় সচল থাকতে পারে। হার্ট সুস্থ থাকে ও ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দেহে তরলের ভারসাম্য ঠিক থাকলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। ত্বকের মসৃণ ও মলিনতা বজায় থাকে। 

কাঁচা কলার ভর্তা উপকারিতা 

কলা এমন একটি ফল যা বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়। কাঁচা, আধা পাকা, পাকা, বেশি পাকা, যেকোনো ভাবেই কলা খাওয়া যায়। আপনি কি কখনো কাঁচা কলার ভর্তা খেয়েছেন? যদি না খেয়ে থাকেন তাহলে কাঁচা কলার ভর্তার উপকারিতা জেনে আপনি না খেয়ে থাকতে পারবেন না। কাঁচা কলা মূলত বাজারে সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

  • কাঁচা কলার ভর্তা হলো প্রি বায়োটিকস। কাঁচা কলার ভর্তায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে পেট ভরা থাকে,  ক্ষুধা কম লাগে, ওজন হ্রাস পায়। 
  • কাঁচা কলা আঁশযুক্ত খাবার যা দেহের  শর্করার পরিমাণ নিয়ন্তন রাখে। 
  • কাঁচা কলার ভর্তায় ক্যান্সার প্রতিরোধী যৌগ ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর কারনে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। 
  • ডায়রিয়া বা পেটের পীড়া হলে কাঁচা কলার তরকারি খান ভালো উপকার পাবেন। 
  • টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাঁচা কলায়  ভালো উপকার পাওয়া যায়। 

নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা 

কলার নানাবিদ গুনাগুন। নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের  সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই জন্য কলাকে বলা হয় সুপার ফ্রুটস। নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে দেহে তরলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। দেহের অতিরিক্ত  ওজন কমে যায়। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে ত্বকের লাবণ্যতা ঠিক থাকে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। মলাশয়ের স্বাভাবিক ক্রিয়া ঠিক থাকে। 

সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা 

সকালে কলা খেলে অনেক ভালো উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত প্রতিদিনের ব্রেকফাস্টে কলা খান। প্রতিদিন সকালে ডিম, বিস্কুট, টোস্ট ইত্যাদি সাথে কলা খান। যদি হজমের সমস্যা থাকে তাহলে ভালো হয়ে যাবে। সারারাত ঘুমানোর ফলে আমাদের দেহে পানির পরিমাণ কমে যায়। সকালের নাস্তায় যদি কলা খান তাহলে অনেকাংশে পানির চাহিদা পূরণ হবে। কারণ কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জলীয় অংশ আছে। সকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্কের নানা রকম কাজে ব্যস্ততা থাকতে হয়। তাই কলা খেয়ে দিনটা শুরু করুন মস্তিষ্কের সুস্থতা ঠিক থাকবে। 

আরও পড়ুন: কলার উপকারিতা ও অপকারিতা, কলা খাওয়ার নিয়ম

রাতে কলা খাওয়ার উপকারিতা 

প্রত্যেক প্রাণীর জন্যই ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের মাধ্যমে দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো বিশ্রাম নিতে পারে। এইজন্য প্রয়োজন ভালো ঘুম। ভালো ঘুমের জন্য রাতে একটি করে কলা খান। কলা খাওয়ার ফলে মেলাটোনিন ও কর্টিসল নামক বিশেষ হরমোন শরীরের নিঃসৃত হয়। যার ফলে রাতে ভালো ঘুম হয়। 

পাকা কলার উপকারিতা 

অতিরিক্ত পাকা কলার মধ্যে বিভিন্ন এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে যা দেহের ইলেকট্রোলাইটের সমতা বজায় রাখে। শরীরের কোষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। অতি পাকা কলায় আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে। 

খালি পেটে কলা খেলে কি হয়? 

কলার বহু পুষ্টিগুণ আছে তাই বলে খালি পেটে কলা খাওয়া উচিত নয়। খালি পেটে কলা খেলে এসিডিটির সমস্যা হতে পারে। দেশে ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম এর ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই খালি পেটে কলা না খেয়ে কিছু খাওয়ার পরে তারপর কলা খান। 

সাগর কলার উপকারিতা 

সাগর কলার  বিভিন্ন উপকারিতা আছে –

  • রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিমন্ত্রণ করে 
  • মেয়েদের পিরিয়ডের ব্যথা নিরাময় করে 
  • হার্টের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে 
  • ইমিউনিটি সিস্টেম বৃদ্ধি করে 
  • বদ হজম রোধ করে 
  • ক্যান্সারের ঝুকি কমায় ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে 

বিচি কলার উপকারিতা 

বিচি কলা বা আটিয়া কলার উপকারিতা জেনে নিন 

  • আলসারের সমস্যা সমাধানে ভালো ফলাফল দেয়। 
  • কৃমিনাশক হিসেবে বিচি কলা খাওয়া যায়। 
  • বিচি কলার বীজ ডায়রিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। 
  • মানসিক ও দৈহিক কর্ম ক্ষমতা বজায় রাখে। 

কলার থোর এর উপকারিতা 

কলার থোর খাওয়ার প্রচলন গ্রাম অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। কলার থোরের বিভিন্ন উপকারিতা আছে

  • এসিডিটির সমস্যায় কলার থোর বা কলার মোচা রান্না করে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। 
  • ডায়রিয়া হলে বা অতিরিক্ত জ্বর হলে কলার থোর খাওয়া যায়। 
  • দেহের চর্বি নিঃসরণে কলার থোর ভুমিকা রাখে। 

কলা ও মধু 

রূপচর্চায় কলা ও মধুর ফেস মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়, ত্বকের কালো দাগ দূর হয়, ব্রণ দূর হয়। একটি বাটিতে একটি কলা এবং পরিমাণ মতো মধু নিয়ে ভালোভাবে মিক্সিং করতে হবে। এরপর মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত করলে ত্বকের মলিনতা বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক উজ্জল  হয়। 

আরও পড়ুন: মধু খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা

কলা খাওয়ার অপকারিতা 

কলায় নানাবিধ পুষ্টিগুণ আছে। কলা খেলে দেহের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু কলার কিছু অপকারিতা আছে –

  • কলার মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালরি থাকার কারণে কলা বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বৃদ্ধি পাবে। 
  • পরিমাণের থেকে কলা বেশি খেলে মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। কারণ কলার মধ্যে আছে টাইরা মাইন।যা মাইগ্রেনের কারণ। 
  • কিডনি রোগীদের কলা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা কিডনি রোগীর জীবননাশের আশংকা থাকে। 
  • কলা বেশি পরিমাণে খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে হজমে সমস্যা হতে পারে। 
  • এলার্জি বেড়ে যেতে পারে। 
  • হাইপার ক্যালেনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ দেহে অতিরিক্ত পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে এই রোগ হয়। 

মন্তব্য

এতক্ষণ আমরা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং কলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আশা করি আপনারা সবাই ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। আপনাদের যদি আরো কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের জানাবেন। আর যে কোন চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 

খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *